প্রকাশিত: ২৭/০৩/২০১৭ ১০:৪৮ পিএম

এম.বশিরুল আলম,লামা :
লামা সরই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ ইউছুফ এ পর্যন্ত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মিশ্র ফলের পাশাপাশি ডেইরী ফার্ম ও ক্ষুদ্রাকারে মৎস্য চাষ চালু করেছে। ২০ একর পাহাড়ি জমিতেবিভিন্ন জাতের আম, লিচ,ুপেয়ারা, পেপে ও কলা চাষ হচ্ছে। আলো বাতাশ ও মৌসুমি বায়ুর চাপ বিবেচনা করে ছোট ছোট একেকটা টিলা টঙ্করের একেক অংশে লাগানো হয়েছে একেক প্রজাতির ফলের গাছ। পুরোটা যেন পরিকল্পিত একটি প্রকল্প। সোনালী রৌদ্ররশ্মি ফল গাছের সবুজ পাতায় পাতায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সে আলোর ছটা ঝলকিয়ে দেয়। ফুল ও ফলের গন্ধে নানা জাতের পাখিরাও আশ্রয় নিয়েছে এই উদ্যানটিতে।
চাষী মোঃ ইউছুফ জানায়, পাহাড়ে সোনা ফলা যায়, শুধু শ্রম ও পরিকল্পনা যদি ঠিক থাকে। নিজ গ্রামে ২০ একর পাহাড়ী ভুমি ক্রয় করে। বিভিন্ন ব্যক্তিও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন সহায়তা না পেয়ে, ২০০৯সালে মিশ্র ফলের বাগান সৃজন কার্যক্রম শুরু করেন। পর্যায় ক্রমে যুক্ত হয়, মৎস্য চাষ ও দুগ্ধজাত খামার ও গরু পালন।
কৃষিবিদদের মতে এখানকার পাহাড়ের মাটিতে যে কোন ফল চাষের উপযোগি জৈবিক গুণাবলী রয়েছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অনকুল প্রভাব, উৎপাদিত ফলফলাদি বাজারজাত করণেও রয়েছে চমৎকার সুযোগ। পাহাড়ের ঢালুতে মিশ্র ফল চাষ, দু’পাহাড়ের ঢালুর নীচের অংশে বাধ দিয়ে মৎস্য চাষ ও ডেইরী ফার্ম করে এলাকায় আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন ইউছফ এগ্রো। যে মূহুর্তে পাহাড়ে চলছে নির্বিচারে বৃক্ষ নিঁধন, পাহাড় কর্তন আর অগ্নি সংযোগ, ঠিক সেই মূহুর্তে এ কৃষক ইকো সিষ্টেমে উদ্যান করে জীব বৈচিত্র রক্ষাসহ নিজে লাভবান হচ্ছেন বাণিজ্যিক ভাবেও। এর বাহিরেও এই কৃষক আরো ২৫ একর ভুমিতে বনবাগান সৃজন করেছেন।
সম্প্রতি লামা কৃষি অধিদপ্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার স্বপন দাশ,কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা রতন দাশ,গোপন চেীধুরী ও শুকুমার দেওয়ানজিসহ বাগান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ২০ একর পাহাড়ের আয়তন নিয়ে বিদ্যমান টিলার ফাকে ফাকে তিনটি বাধ নির্মাণ করে জলাশয় সৃষ্টি করে সেখানে মৎস্য চাষ করছেন। এছাড়া দেশিয় ২০-২০টি গরু পালন করছেন বাগান এলাকায়। কৃষকের সাথে আলাপ করে জানাযায়, বিগত কয়েক বছরে বাগান থেকে বিভিন্ন জাতের ফল বিক্রি করে পেয়েছে-১০ লাখ, মৎস্য ও ডেইরী ফার্ম থেকে মোট ২৬ লাখ টাকা আয় হয় সব মিলিয়ে মাসিক কর্মচারী রয়েছে ৮ জন। ভুমি ক্রয়সহ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দফে দফে মোট বিনিয়োগ হয়েছে- প্রায় তিন কোটি টাকা। এবছর আমের পর্যাপ্ত মুকুল বের হলেও সম্প্রতি অতি বৃষ্টিতে ভিজে এনট্রাক্স ও পাউডারি মিলডিও রোগে আক্রান্তের কারনে প্রায় ৮-১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে বলে জানান ইউছুফ এগ্রোর মালিক ।
সরকারি কৃষি অধিদপ্তরের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শিল্পি দাশ, মনছুর আলম, লামা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার স্বপন দাশ ও উপজেলা কৃষি অফিসার নুরে আলমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কৃষক ইউছুফ জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি সাফল্যতা অর্জন করেছেন।
এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার স্বপন দাশ, জানান, মিশ্র ফল চাষে আবদুর রহমান আসলে একজন সফল ও আদর্শ কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবী রাখে। এছাড়া উদ্যানের পাশাপাশি এই কৃষক মৎস্য ও দুগ্ধ খামারী হিসেবেও তাকে পুরস্কৃত করা প্রয়োজন। এই কৃষকের অবদানে জীব বৈচিত্র রক্ষা পেয়ে এলাকায় ও বাহিরে পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভুমিকা রাখছে। এই জেলা থেকে ক্ষুদ্র উদ্যাক্তা হিসেবে তাকে জাতীয় পুরুস্কার দিয়ে উৎসাহিত করা দরকার। এছাড়া অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলো তার পাশে দাড়ানো উচিৎ বলে মনে করেন কৃষিবিদসহ স্থানীয়রা।
এ ব্যপারে অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান ( কেন্দ্রীয় ব্যাংক) এই কৃষকের প্রতি বিনিযোগের হাত বাড়িয়ে দিলে, এ ধরণের আরো অনেক উদ্যাক্তারা উৎসাহ পাবেন পাহাড়ে এতদসংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ার। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নজরে আনা প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...
Single Page Footer